নিউজডেস্কঃ
কোলাহালমুক্ত, নিরব নিস্তব্দ। নিঃসঙ্গতায় সত্যিই যেন লজ্জা পাচ্ছে সাগরকন্যা। এই সুযোগে লালকাকড়ারা যেন আপন ভূবনে রাজত্ব করছে। আর সাগরলতারা যেন দোল খাচ্ছে সৈকতে। এযেন এক নতুন সবুজের অরন্য। স্থানীয়দের মতে, নবরুপে নবযৌবনে ফিরেছে কুয়াকাটা। আর হাতছানি দিচ্ছে পর্যটকদের।
একই স্থানে দাড়িয়ে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্থ দেখার অপরুপ সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি সাগরকন্যা নামে খ্যাত কুয়াকাটা। ১৮কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ সমুদ্র সৈকতকে ১৯৯৮সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে ঘোষনা করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াকাটা থেকে কিছু পূর্বে গঙ্গামতি সৈকত। গোটা সৈকতের বালুর উপরে ধীরে ধীরে আছড়ে পরছে ঢেউ, যেন লজ্জাপাচ্ছে সাগরকন্যা। লকডাউনে এক বছর ধরে তার যৌবনের জৌলাস দেখতে আসেনি কেউ। তাইতো চারদিকে শুনসান নিরবতা। কোথাও নেই কোন কোলাহাল। নেই পর্যটকদের আনাগোনা। সুনসান নিরবতায় সাগরের ঢেউ প্রত্যক্ষ করছে লালকাকড়া, ঝিনুক আর সবুজ অরন্য।
গঙ্গামতির আগে এক সময়ের ঝাউবাগান এখন যেন সবুজের সমারোহ। যেকেউ দেখলেই বিমোহিত হবেন। প্রকৃতি আর পরিবেশ যেন নিজের মত করে বাধাহীন ভাবে গড়ে উঠেছে এতদিন। সবুজ অরন্যে পাখির কলকাকলি আর লালকাকড়ার অবাধ বিচারনে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। একদিকে সাগরলতার বিরামহীন ছুটে চলা অন্যদিকে লালকাকড়ার ছুটাছুটিতে স্থানীয়রাও মুগ্ধ। কুয়াকাটা টুরিজ্যম ব্যবসায়ী আবুল হোসেন রাজু জানান, দীর্ঘদিন ধরে পর্যটক নাই। সৈকতে মোটরসাইকেলসহ পর্যটকদের হাটাহাটি নাই। এই সুযোগে যেন নিজ রাজ্যে অবাধে বিচারনের সুযোগ পেয়েছে সৈকতের প্রাণীকূল। তিনি জানান, লকডাউন খুলে দেয়া হবে ১৮৯আগষ্ট। আমরা ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুৃতি সম্পন্ন করিছি। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে কুয়াকাটার সকল ব্যবসায়ীরা প্রস্তুৃত।
স্থানীয় ভাসমান ব্যবসায়ী মোঃ ছানাউল্লাহ জানান, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর কুয়াকাটাকে এভাবে দুষনমুক্ত দেখেনি কেউ। তাইতো প্রকৃতির এই মুগ্ধকর পরিবেশকে আমরা সাচ্ছন্দে মেনে নিয়েছি। তবে পর্যটক আসার পরও যদি কুয়াকাটার এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশ বজায় থাকতো তাহলে পর্যটকরাও খুশী হত, তারাও প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারতো।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দালন বাপা’র কলাপাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মান্নু জানান, লকডাউন শেষে পর্যটকদের গোটা সৈকতে বাধাহীন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করা গেলে দীর্ঘ মেয়াদি স্থায়ী সৌন্দর্য বিরাজমান থাকা তেমন কোন বিষয় না।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের এগ্রোফরেষ্ট্রি বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, পরিবেশের ভারসাম্য এবং জীববৈচিত্র রক্ষায় কুয়াকাটার দুষনমুক্ত এ অবস্থা স্থায়ীভাবে টিকিয়ে রাখা এখন সময়ের দাবী। কারণ জলবায়ুর বিরুপ আচারণের প্রভাব এক সময়ে পর্যটকদের উপরও পরতে পারে।
কুয়াকাটা পৌরসভা মেয়র মোঃ আনোয়ার হাওলাদার জানান, পর্যটকবান্ধব যেসকল কাজ পৌরসভার অধীনে রয়েছে আমরা সেসব কাজ অব্যাহত রাখবো।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীপ জানান, কুয়াকাটার অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। গত এক বছরের লকডাউনে সবকিছু বন্ধ ছিল। এখন সবাই পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত। তিনি বলেন, লকডাউনে নতুন কুয়াকাটার সৌন্দর্য্য উপভোগ করবে এবারে কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরা। কারণ হিসাবে তিনি জানান, গোটা সৈকত এখন দূষনমুক্ত। কোন ধরনের ময়লা আবর্জনা নাই। সাগরপাড়ের গাছগুলো অন্যরকম সবুজের রং ধারণ করেছে। পশ্চিমে বেøাকপাড়ও সেজেছে ভিন্ন আঙ্গিকে। সবমিলিয়ে পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে নবযৌবণে রুপ নেয়া সাগরকন্যা কুয়াকাটা-জানান মোতালেব শরীপ।
