সংবাদদাতা পটুয়াখালীঃ
পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া এলাকায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, জমি দখলের চেষ্টা ও নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। হামলায় আহত গোপাল মাঝি আজ শনিবার দুপুরে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাতজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন। তাঁরা হলেন—একই এলাকার জাকির ভুইয়া, সুমন প্যাদা, নাসির আকন, খালেক প্যাদা, হারুন মাতবর, জাফর ভূইয়া ও নিজাম প্যাদা। এ ছাড়া আরও ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হামলায় জড়িত ছিলেন বলে জানান তিনি।
লিখিত বক্তব্যে গোপাল মাঝি বলেন, তিনি মরিচবুনিয়া মৌজার ৪০ কাঠা জমির রেকর্ডভুক্ত মালিক ও ভোগদখলকারী। দীর্ঘদিন ধরে জাকির ভুইয়ার নেতৃত্বে একটি পক্ষ ওই জমি দখলের চেষ্টা করছে। সম্প্রতি তারা আমাদের জমিতে বালু ভরাট করে জোরপূর্বক ঘর ওঠানোর চেষ্টা করলে আমরা বাধা উপেক্ষা করে ঘর তোলে।
এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দিতে শুরু করেন। তারা একাধিকবার বাড়ির সামনের রাস্তায় দেশীয় লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়া দেয়। সন্তানদের স্কুলে যেতে বাধা দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন।
গোপাল মাঝির দাবি, আমার দায়েরকৃত অভিযোগপর ভিত্তিতে পুলিশ জাকির ভুইয়াকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠালে দু’ সপ্তাহ পর ১৬ ফেব্রুয়ারি জামিনে বপর হলে ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে মরিচবুনিয়া এলাকায় জাকির ভুইয়াসহ কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ধরে। এ সময় লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। তাঁর ভগ্নিপতি রতন মাঝিও হামলার শিকার হন। বর্তমানে তাঁরা দুজনই পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাঁর কাছে থাকা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং গলায় থাকা দুইটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে থানায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গোপাল মাঝি বলেন, “আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। আমার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।” তিনি হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও জমি দখলের চেষ্টার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
গোপাল মাঝির ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে অপূর্ব মাঝি বলেন, বাড়ি থেকে চার কিলোমিটার দূরের বাইসাইকেলে স্কুলে যাওয়ার পথে ওইসব লোকজন বাধার সৃষ্টি করে।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন, রতন মাঝি (ভগ্নিপতি), সুমা রানি (স্ত্রী), অপূর্ব মাঝি, আলো রানি, বাদল মাঝি, মলিনা রানি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান টিটু বলেন, জমি-জমা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে গোপাল মাঝি আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে আমি উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে পরিষদে আসার নোটিশ দিলেও প্রতিপক্ষ উপস্থিত হয়নি।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, জমি নিয়ে মারামারির ঘটনা আমাদের জানা আছে। তাদের দায়েরকৃত মামলায় একজনকে জেল হাজতেও পাঠানো হয়েছে। ভারতে যাওয়ার হুমকির বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
