দশমিনা প্রতিনিধি
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সারাদেশে যখন ভাষা শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা, ফুলেল অর্ঘ্য ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে, ঠিক তখনই পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ১ নং রণগোপালদী ইউনিয়নের গুলি আউলিপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা সত্ত্বেও ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন দেখা যায়নি। শহীদ মিনারের আশপাশ ও বেদীর ওপর পড়ে ছিল শুকনো পাতা ও ময়লা-আবর্জনা। ছিল না পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দৃশ্যমান উদ্যোগ কিংবা ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রস্তুতি।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ শাহিন হাওলাদার ফজরের নামাজ আদায় শেষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিদ্যালয়ে গেলে হতাশ হন। শহীদ মিনারের অবহেলিত অবস্থা দেখে তিনি নিজেই উদ্যোগ নেন। কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারের চারপাশ ও বেদী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। পরে তারা ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মোহাম্মদ শাহিন হাওলাদার বলেন, “সকালে ফজরের নামাজ পড়ে ফুল দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ে যাই। গিয়ে দেখি কোনো আয়োজন নেই। পরে ৪-৫ জনকে নিয়ে শহীদ মিনার পরিষ্কার করে আমরা ফুল দিয়ে চলে আসি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ মুঠোফোনে বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে। শহীদ মিনারে কিছুদিন আগে কাজও করা হয়েছে। একটি মহল বিদ্যালয়ের মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এমনটি প্রচার করছে।”
ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র মোঃ রাসেল জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা সত্ত্বেও মহান একুশে ফেব্রুয়ারি যথাযথভাবে পালন না করা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা শিক্ষার্থীদের মাঝে জাগ্রত করার প্রধান স্থানই হলো বিদ্যালয়। সেখানে এমন উদাসীনতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক।
মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, “আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বলছি,এই ভাষা ও দেশ রক্তের দামে অর্জিত। শহীদ মিনার অবহেলায় পড়ে থাকা মানে শহীদদের অপমান। একুশ কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়। দায়িত্বশীলদের জাগতে হবে, নইলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন যুবকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে পালিত এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনেকের কাছে দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। প্রশ্ন রয়ে গেছে,ভাষার জন্য জীবন দেওয়া শহীদদের স্মরণে যেখানে একটি ফুল অর্পণও কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে আমাদের চেতনার অবস্থান কোথায়?
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
