দুমকী প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর দুমকিতে মাছ ও তরকারির বাজার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় ক্রেতা-সাধারণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পাশ্ববর্তী মৌকরণ, বগা ও কলসকাঠি বাজারের তুলনায় দুমকির পীরতলা বাজারে প্রতিদিন ২০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দামে নিত্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে।ক্রেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গড়ে নিজেদের মতো করে দাম নির্ধারণ করছেন। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের বাজার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আশপাশের বাজারগুলোতে তুলনামূলক কম দামে পণ্য বিক্রি হলেও দুমকিতে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে।সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আলু, পেঁয়াজ, মরিচ, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি এবং স্থানীয় নদীর মাছ স্বাভাবিক দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা জানান, অন্য বাজারে যেতে সময় ও অতিরিক্ত ভাড়া লাগে, তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাদের দাবি, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উচ্চ বেতনের প্রভাবও স্থানীয় বাজারে পড়েছে। ফলে তারা চাইলেও তুলনামূলক উচ্চমূল্যে পণ্য কিনতে পারছেন, অথচ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।তরকারি ব্যবসায়ী অলিউর রহমান মৃধা বলেন, “পাইকারি বাজারেই দাম বেশি আসছে, আর পরিবহন খরচও বেড়েছে।” তবে ক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজার স্থিতিশীল থাকলেও দুমকিতে সিন্ডিকেটের কারণে অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে।পীরতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন খান স্বীকার করেন, “সিন্ডিকেটের বিষয়টি সত্য। সমিতির পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও অনেক ব্যবসায়ী ন্যায্যমূল্যে বিক্রি না করে বেশি দাম নিচ্ছে। শিগগিরই বৈঠক করে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে।”এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. এজাজুল হক বলেন, “বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়ালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ছাড়া বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নইলে নিত্যপণ্যের দাম আরও অস্থিতিশীল হয়ে সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে কেনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
