ডেক্স রিপোর্ট
বিচারকের বাসায় ঘুষ পাঠানোর অভিযোগে পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের সরকারি কৌশলী (পিপি) এডভোকেট মোঃ রুহুল আমিনের সদস্য পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতি। আদালতের বিচারক নীলুফার শিরিনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনজীবী সমিতির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় ১৮৪ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এরআগে গতকাল বুধবার সকালে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক নীলুফার শিরিন ঢাকা বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগে একটি মামলায়ে আসামীদের জামিনের জন্য সুপারিশ করে তার বাসায় ঘুষের টাকার বান্ডিল পাঠানোর অভিযোগ আনেন। লিখিত আবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল, আইন মন্ত্রনালয়ের সচিব এবং পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অনুলিপি দেন। লিখিত অভিযোগ বিচারক নীলুফার শিরিন উল্লেখ করেন যে, তার আদালতে বিচারাধীন নারী ও শিশু কেস নং -২৬১/২৫, ধারা ৯(৩) নারী শিশু) একটি ধর্ষন মামলার আসামির পক্ষে অভিযোগ দায়েরের ২ দিন আগে থেকে পিপি মোঃ রুহুল আমিন হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দেন, যার কোন রিপ্লাই তিনি দেননি। তিনি ভেবেছিলেন তার রিপ্লাই না পেয়ে পিপি মোঃ রুহুল আমিন থেমে যাবেন। কিন্তু ২০ আগস্ট সকাল ৯ টার দিকে পিপি রুহুল আমিনের একজন লোক তার বাসার গৃহকর্মীর নিকট একটি লাল ব্যাগ (যার মধ্যে দুটি প্যাকেট ছিল) দেন এবং তিনি বলে যান ব্যাগটি তাকে দিতে, পিপি সাহেব ইহা পাঠিয়েছে। পরবর্তিতে গৃহকর্মী তাকে ব্যাগটি হাতে দিয়ে বলেন, এক লোক এটি হাতে দিয়ে বলেছেন পিপি সাহেব পাঠিয়েছেন। বিচারক দরজা খুলে ঐ লোককে আর দেখতে পাননি। পরবর্তিতে বিচারক ব্যাগ খুলে দেখতে পান, তার মধ্যে ২ টি খাকি রংগের খাম, যার মধ্যে একটিতে উল্লেখিত মামলার যাবতীয় কাগজপত্র অন্যটিতে ৫০০ টাকার নোটের একটি বান্ডিল, যা তিনি গুনে দেখেননি তবে অনুমানের ভিত্তিতে বোঝা যায় ৫০ হাজার টাকা আছে। বিচারক তার লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ্য করেছেন যে, এভাবে ঘুষ পাঠানোতে আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত অপমানিত এবং তীব্র রাগ বোধ করি। পাশাপাশি তিনি অফিসে এসে জেলা বারের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি ও জেলা জজের পাবলিক প্রসিকিউটরকে ব্যাপারটি অবহিত করি এবং প্যাকেটটি দেখাই। তারাও প্রচন্ড রাগান্বিত হন এবং আমাকে বিষয়টি ছোট করে না দেখার পরামর্শ দেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, উক্ত নারী শিশু পিপির বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ জসিমের কন্যা আলোচিত লামিয়া গনধর্ষণ মামলার পিপি হয়েও আসামীর পক্ষে তদবির করা সহ বিভিন্ন মামলায় আসামীর পক্ষে তদবির করেন। উল্লেখিত পিপিকে নিয়ে আদালতের কার্যক্রম চালানো তার পক্ষে সম্ভব নয়, যাতে বিচারকের সততা ও সুনাম ক্ষুন্ন হয়। এমতাবস্থায় ওই পিপির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। জানতে চাইলে পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এডভোকেট মোঃ রুহুল আমিন বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র। ওই মামলাটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে বিএনপির নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল। তাই আমি বিচারককে বিষয়টি অবহিত করেছি মাত্র ।
