অপূর্ব সরকার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চাঞ্চল্যকর ডাকাতি ও গণধর্ষণ মামলার তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই বিষয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বাউফল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর বলেন,গত ১৪ জুলাই রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে কলাপাড়া থানার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের এক বাড়িতে ডাকাতি ও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ছয়-সাতজনের একটি ডাকাত দল বাড়ির বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ ৫০ হাজার টাকা, প্রায় ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি স্যামসাং Galaxy A13 মোবাইল ফোন লুট করে। এ সময় তারা পরিবারের সদস্যদের বেঁধে ফেলে এবং বাড়ির মালিকের আমেরিকান নাগরিক স্ত্রীকে অন্য কক্ষে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী পরিবারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়। পরে তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়ের হয় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৯৫/৩৯৭ ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৯(৩) ধারায়।
অভিযানের মাধ্যমে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো— ১/ মো. কাওসার (২৪), লতাচাপালি ইউনিয়ন, মহিপুর, পটুয়াখালী।২/ আশিষ গাইন (৩০), কলাপাড়া পৌরসভা, পটুয়াখালী। ৩/ মো. শওকত আহমেদ রিপন ওরফে সোহাগ (২৫), পোটকাখালী, বামনা, বরগুনা।
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকা থেকে কাওসার, ঢাকার দারুস সালাম থানার টেকনিক্যাল মোড় এলাকার একটি বস্তি থেকে রিপন সোহাগ এবং তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কলাপাড়া পৌরসভা থেকে আশিষ গাইনকে গ্রেফতার করা হয়। রিপন সোহাগের নিকট থেকে লুণ্ঠিত স্যামসাং মোবাইল ফোন সেট উদ্ধার করা হয়েছে।
আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের দায় স্বীকার করেছে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিবির ওসি মো. জসিম উদ্দিন ও কলাপাড়া থানার ওসি মো. জুয়েল।
