পটুয়াখালী সদর উপজেলার চর-বলইকাঠী গ্রামের বাসিন্দা বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মোঃ সোহেল মল্লিক নামের এক তরমুজ চাষীর জমি থেকে বিগত ৫-২-২০২৫ ইং তারিখ তরমুজ খেতে সেজ দেয়ার একমাত্র পাম্প রাতের অন্ধকারে চুরির ঘটনা ঘটে। পরের দিন সকালে সেজ পাম্প না পেয়ে স্হানীয় লোকজন নিয়ে বহু খোঁজা খুঁজি করেন। ভুক্তভোগী সোহেল মল্লিক ও স্থানীয় ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে বহু খোঁজা-খুঁজি করা সত্ত্বেও চুরি হয়ে যাওয়া সেজ পাম্পের কোন হদিস মেলেনি। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী তরমুজ চাষি স্থানীয় চৌকিদার মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করেন। কিন্তু কোন কিছুতেই মিল ছিল না ভুক্তভোগীর চুরি যাওয়া পাম্পের সন্ধ্যান। এর মধ্যে অতিরিক্ত তাপ প্রবাহ যাহার কারণে তরমুজের চারাগুলো একের পর এক ঢলে পড়তে শুরু করে এবং তিন থেকে চার দিনের মধ্যে প্রায় ৪৮০ শতাংশ যাহা স্হানীয় মাপের ২ কানি জমির আট হাজার তরমুজ চাড়া শুকিয়ে মরে যায়। ভুক্তভোগী তরমুজ চাষি শত চেষ্টা করেও তরমুজ চারাগুলো রক্ষা করতে ব্যর্থ হন। অপরদিকে ভুক্তভোগীর ৯৬০ শতাংশ যাহা স্হানীয় মাপের ৪ কানি জমির তরমুজ চারা ভালো থাকায় তরমুজ চাষি তাৎক্ষণিক ২০.০০০/ হাজার টাকায় পুরাতন একটি সেজ পাম্প কিনে তার তরমুচ খেতে পানি দেওয়া শুরু করেন। এতে রক্ষা পায় ভুক্তভোগী তরমুজ চাষির ৯৬০ শতাংশ জমির তরমুজ চারা। ভুক্তভোগী তরমুজ চাষির ৮ হাজার তরমুজ চারা মরে যাওয়ার কারনে ক্ষতি হয় ৪ লক্ষ টাকার অধিক। হঠাৎ বিগত ১৩-০২-২০২৫ ইং তারিখ চর-বলাইকাঠী নিবাসী মোঃ সুমন খান পিতা মোঃ হাবিব খানের মাধ্যমে ভুক্তভোগী জানতে পারেন যে তার চুরি হয়ে যাওয়া সেজ পাম্পটি গলাচিপা উপজেলার ৯নং কলাগাছিয়া ইউনিয়নের খারিজ্জমা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা সেন্টু হাওলাদারের নিজ গ্যারেজে গোপনে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী তরমুজ চাষি তাৎক্ষণিক ঐ স্থানে উপস্হিত হয়ে সেজ পাম্পটি তার বলে নিশ্চিত হন এবং তার চুরি হয়ে যাওয়া সেজ পাম্পটি উদ্ধারের জন্য ৯নং কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মাঈনুল সিকদার ও ৫নং কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার জনাব বাবুল হাওলাদার এবং কলাগাছিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন দায়িত্বরত ইনচার্জ জনাব আমিরুল ইসলাম কে ঘটনাটি অবহিত করিলে জনাব আমিরুল ইসলাম সঙ্গীয় ২ জন ফোর্স নিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে সরাসরি উপস্থিত হন এবং উপস্থিত জনতার সম্মুখে ভুক্তভোগীর সেজ পাম্পটি সেন্টু হাওলাদারের নিজ গোডাউন ঘর থেকে উদ্ধার করে চোরাই সেজ পাম্প সহ সেন্টু হাওলাদারকে হাতে নাতে আটক করে কলাগাছিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যান।অভিযুক্ত সেন্টু হাওলাদারকে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে অভিযুক্ত সেন্টু হাওলাদারের জবানবন্দীতে বেরিয়ে আসে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযুক্ত সেন্টু হাওলাদারের বর্ণনা মোতাবেক সেজ পাম্প চুরিতে তার সাথে ছিল তার ছেলে হাবিব হাওলাদার সহ আরো কয়েকজন যাদের মধ্যে রয়েছে মোঃ হান্নান খান এর ছেলে মোঃ রোমান খান এবং ভুক্তভোগী তরমুজ চাষি সোহেল মল্লিক এর নিজ গ্রামের বাসিন্দা নাসির খানের ছেলে মুসা খান। ভিন্ন ভিন্ন কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায় অভিযুক্ত সেন্টু হাওলাদার তার পুত্র হাবিব হাওলাদার এবং মুসা খান চুরির বিষয় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা ভুক্তভোগী তরমুজ চাষি সোহেল মল্লিকের খতিপুরন দিয়ে সালিশ মিমাংসা হওয়ার প্রস্তাব দিলে ভুক্তভোগী তরমুজ চাষি সালিশ মীমাংসার কথায় রাজি হলে ৫নং কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার জনাব বাবুল হাওলাদার সহ উভয় ইউনিয়ানের গন্যমান্য ব্যাক্তিরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত সেন্টু হাওলাদারকে কলাগাছিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে ছারিয়ে আনে বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মেম্বার মোঃ বাবুল হাওলাদার ও তৎকালীন সেই পুলিশ কর্মকর্তা। বিগত ১৪-২-২০২৫ ইং তারিখে সালিশ মিমাংসার জন্য অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা ভুক্তভোগীর নিজ বসত বাড়ির সামনের কাচা রাস্তার উপর উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী তরমুজ চাষি সোহেল মল্লিক ও তার পিতা মোঃ আবু জাফর মল্লিকের কাছে ক্ষমা চান। বিগত ১৪-২-২০২৫ ইং তারিখ পবিত্র সবে-বরাতের রোজা ও নামাজ হওয়ায় কতেক গন্যমান্য ব্যাক্তি উপস্হিত না হওয়ায় ঐদিন সালিশ মিমাংসা হয়নি। উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মুখে সিদ্ধান্ত হয় যে দুই দিন পরে অর্থাৎ ১৬-২-২০২৫ ইং তারিখে সালিশ মিমাংসা হবে বলে অভিযুক্ত ব্যক্তির অভিভাবকরা তিনশত টাকার নন-জুডিশিয়াল স্টাম্পে একটি অঙ্গীকারনামা প্রদান করে চলে যান। কিন্তু সেই দুই দিনের সময় যেন ৭ মাসেও শেষ হয়নি। সমস্ত কিছুর দালিলিক ও ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত ব্যাক্তি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির অভিভাবক চুরির ঘটনা এখন অস্বীকার করেন। ভুক্তভোগী তরমুজ চাষি সোহেল মল্লিক বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত একজন সদস্য এবং পটুয়াখালী জেলা জজ কোটের শিক্ষা নবিশ আইনজীবী। সে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় বিগত ৩-৭-২০২৫ ইং তারিখে পটুয়াখালী বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন যাহার মামলা নং -১১৫৬ ধারা দন্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৫০৬। মামলাটি উক্ত আদালতে চলমান রয়েছে বলে জানা যায়।
ঘটনার সত্যতা জানতে গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থলের একাধিক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করিলে সকল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন উভয় এলাকার ব্যক্তিরা। ( দৈনিক বাংলা ভূমি সৌজন্য)
