জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপকূলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তবে আশার আলো জ্বালিয়েছে পরিবেশবান্ধব কৃষি ও উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম। পটুয়াখালীর মহিপুর থানার সদর মহিপুর,কুয়াকাটা ও লতাচাপলী ইউনিয়নের অন্তত এক হাজার পরিবার এখন দারিদ্র্যের শৃঙ্খল ভেঙে সচ্ছলতার পথে হাঁটছে। কারিতাস বাংলাদেশের বাস্তবায়নে এবং ক্যাথলিক এজেন্সি ফর ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট (CAFOD)-এর অর্থায়নে “একর্যাব প্রকল্প” এর আওতায় এসব পরিবার পরিবেশবান্ধব কৃষি অনুশীলন করছে। তারা ভার্মিকম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদন, জৈব সবজি চাষ ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে আয় করছে। প্রকল্পে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০০০ জন সরাসরি উপকার ভোগী হয়েছেন, যার প্রায় ১০০ শতাংশই নারী। পরোক্ষভাবে উপকৃত হচ্ছেন আরও প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। ২৮০ জন কৃষক এখন নিয়মিত কেঁচো সার উৎপাদন ও বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। এ ছাড়া গড়ে উঠেছে ১৪টি বিক্রয় কেন্দ্র এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা ‘নারী কর্নার’। নারীদের সাফল্যে আজিমপুর গ্রামের আয়েশা বেগম বলেন,“একসময় পরিবারের খাওয়া-পরারও কষ্ট ছিল। কারিতাসের সহায়তায় কেঁচো সার উৎপাদন ও সবজি চাষ শুরু করি। পরে আর্থিক সহায়তায় নারী কর্নার চালু করি। এখন মাসে ২৫/৩০ হাজার টাকা আয় করি।” তাজেপাড়া গ্রামের সেলিনা জানান,“আগে দু’মুঠো ভাত জোটাতেই কষ্ট হতো। কারিতাস থেকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিয়ে ভার্মিকম্পোস্ট, সবজি চাষ, বন্ধুচুলা এবং প্রদর্শনী প্লটের কাজ শুরু করি। এখন মাসে ৩০/৩৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। পরিবার নিয়ে সুখে আছি।”
একইভাবে সালমা বেগম বলেন,“সামান্য সহায়তা নিয়ে শুরু করা উদ্যোগই এখন আমার সংসার চালানোর ভরসা।”
ভার্মিকম্পোস্টে মাটির উর্বরতা ও পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়,সেচ ও উৎপাদন খরচ কমায়,পোকামাকড়ের আক্রমণ হ্রাস করে,লবণাক্ততা কমাতে সহায়তা করে,ফসলের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বজায় রাখে,বিষমুক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান বলেন,“কারিতাসের এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। মহিপুর থানার সকল ইউনিয়নের কৃষকরা এখন রাসায়নিক সার ছেড়ে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছে। এ কার্যক্রম দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।প্রকল্প বাস্তবায়নের পর অংশগ্রহণকারী পরিবারের মাসিক আয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান। স্থানীয় পর্যায়ে জৈব কৃষি ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক স্থায়ী ভিত্তি গড়ে উঠছে।
প্রকল্পের জুনিয়র কর্মসূচি কর্মকর্তা জর্জ বৈরাগী জানান,“এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষ শুধু স্বাবলম্বীই হচ্ছেন না, বরং পরিবেশবান্ধব কৃষির মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল জীবনযাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন।” (দৈনিক ইনকিলাব)
